বোট সাইট কী? উওর এটা রোবট এর মত নিজে নিজে এ সব করে.
বোট সাইট দিয়ে কী হয়? উওর - আপনি যদি একটা বোট সাইট আপনার আইডি একটিভ করে তাহলে এটা নিজে নিজে আপনার সকল ফ্রেন্ডসদের পোষ্টে লাইক কমেন্ট করে দিবে, আপনি একটিভ না থাকলে ও..
কী ভাবে একটিভ করবেন বোট লাইক কমেন্ট দেখে নেন প্রথমে আপনার আইডি তে লগিন করুন তারপর TopTuneBD.Comhttp://BOTBD24.TK যে Step 1 Allow Application তে ক্লিক করুন যায় যায় চায় খালি Continue এ দিবেন
TopTuneBD.Com
TopTuneBD.Com
TopTuneBD.Com
তারপর আবার http://Botbd24.tk তে যেয়ে Step 2 Copy Token এ ক্লিক করে আপনার Token টা
TopTuneBD.Com
কপি করে http://Botbd24.tk তে একটা Box দেখবেন এটা তে কপি করা To টা দিয়ে Submit দিন
বিশ্বের ইতিহাসে উইলিয়াম শেক্সপিয়র এক বিস্ময়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার-যার সৃষ্টি সম্বন্ধে এত বেশি আলোচনা হয়েছে, তার অর্ধেকও অন্যদের নিয়ে হয়েছে কি না সন্দেহ। অথচ তার জীবনকাহিনী সম্বন্ধে প্রায় কিছুই জানা যায় না বললেই চলে।
ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের অন্তর্গত এভন নদীর তীরে স্ট্রাটফোর্ড শহরে এক দরিদ্র পরিবারে শেক্সপিয়র জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় চার্চের তথ্য থেকে যা জানা যায় তাতে অনুমান তিনি সম্ভবত ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জন শেক্সপিয়রের মা ছিলেন আর্ডেন পরিবারের সন্তান। শেক্সপিয়র তার নাটকে মায়ের নামকে অমর করে রেখেছেন।
As you like it
আঠার বছর বয়সে শেক্সপিয়র বিবাহ করলেন তার চেয়ে ৮ বছরের বড় অ্যানি হাতওয়েকে। বিবাহের কয়েক মাসের মধ্যে অ্যানি এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। তার নাম রাখা হয় সুসানা। এর দুই বছর পর দুটি যমজ সন্তানের জন্ম হয়। ছেলে হ্যামলেট মাত্র ১ বছর বেঁচে ছিল।
শোনা যায় সংসার নির্বাহের জন্য তাকে নানা কাজকর্ম করতে হতো। একবার ক্ষুধার জ্বালায় স্যার টমাসের একটি হরিণকে হত্যা করেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়াতে তিনি পালিয়ে আসেন লন্ডনে। কিন্তু এই কাহিনী কতদূর সত্য সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়ে যায়। তবে যে কারণেই হোক তিনি স্ট্রাটফোর্ড ত্যাগ করে লন্ডন শহরে আসেন।
সম্পূর্ণ অপরিচিত শহরে কাজের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে পেশাদারি রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।
নাট্যজগতের সাথে এই প্রত্যক্ষ পরিচয়ই তার অন্তরের সুপ্ত প্রতিভার বীজকে ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত করে তোলে।
নাট্য সম্পাদনা কাজ করতে করতেই শেক্সপিয়র অনুভব করলেন দর্শকের মনোরঞ্জনের উপযোগী ভালো নাটকের একান্তই অভাব। সম্ভবত মঞ্চের প্রয়োজনেই শেক্সপিয়রের নাটক লেখার সূত্রপাত। ঠিক কখন তা অনুমান করা কঠিন। তবে সুদীর্ঘ গবেষণার পর প্রাথমিকভাবে একটি তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে তা থেকে অনুমান করা হয় যে তার নাটক রচনার সূত্রপাত ১৫৯১ সাল। এই সময় তিনি রচনা করেন তার ঐতিহাসিক নাটক হেনরি ঠও-এর তিন খণ্ড। নাটক রচনার ক্ষেত্রে এগুলো যে তার হাতেখড়ি তা সহজেই অনুমান করা যায়। কারণ এতে শেক্সপিয়রের প্রতিভার সামান্যতম পরিচয় নেই। এর পরের বছর লেখা নাটক রিচার্ড থ্রি
অনেকাংশে উন্নত। (Richard III)
১৫৯২ সালে ইংল্যান্ডে ভয়াবহ প্লেগ রোগ দেখা গিয়েছিল। তখন প্লেগের অর্থ নিশ্চিত মৃত্যু। দলে দলে মানুষ শহর ছেড়ে পালাতে আরম্ভ করল। অনিবার্যভাবে রঙ্গশালাও বন্ধ হয়ে গেল। নাটক লেখার তাগিদ নেই, শেক্সপিয়র রচনা করলেন তার দুটি কাব্য, ভেনাস ও অ্যাডোনিস এবং দি রেপ অব লুক্রি। এই দুটি দীর্ঘ কবিতাই তিনি সাদমটনের আর্লকে উৎসর্গ করেন।
কবি-নাট্যকার হিসেবে শেক্সপিয়রের খ্যাতি ক্রমশই চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। বিভিন্ন নাট্যগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাদের দলভুক্ত হওয়ার জন্য তার কাছে আমন্ত্রণ আসছিল। তিনি লর্ড চেম্বারলিনের নাট্যগোষ্ঠীতে যোগ দিলেন (১৫৯৪)। এই সময় থেকে শেক্সপিয়রের হাত থেকে বের হতে থাকে এক একটি অবিস্মরণীয় নাটক-টেমিং অব দি শ্রু, রোমিও জুলিয়েট, মার্চেন্ট অব ভেনিস, হেনরি ফোর, জুলিয়াস সিজার, ওথেলো, হ্যামলেট। তার শেষ নাটক রচনা করেন ১৬১৩ সালে হেনরি এইট।
একদিন যিনি তস্করের মতো স্ট্রাটফোর্ড ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন সেখানেই বিরাট এক সম্পত্তি কিনলেন। ইতিপূর্বে লন্ডন শহরেও একটি বাড়ি কিনেছিলেন। সম্ভবত ১৬১০ সাল পর্যন্ত এই বাড়িতেই বাস করেছিলেন শেক্সপিয়র। এরপর তিনি অবসর জীবন যাপন করার জন্য চিরদিনের জন্য লন্ডন শহরের কলকোলাহল, প্রিয় রঙ্গমঞ্চ ত্যাগ করে চলে যান স্ট্রাটফোর্ড। একটি মাত্র নাটক ছাড়া এই পর্বে আর কিছুই লেখেননি। ছয় বছর পর ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল (দিনটি ছিল তার বাহান্নতম জন্মদিন) তার মৃত্যু হলো। আগের দিন একটি নিমন্ত্রিত বাড়িতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে মদ্য পান করেন। শীতের রাতে পথেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর সুস্থ হয়ে ওঠেনি শেক্সপিয়র। জন্মদিনেই পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিলেন।
অথচ সবচেয়ে বিস্ময়ের, শেক্সপিয়র তার নাটকের প্রায় প্রতিটি কাহিনী দাঁড় করিয়েছেন, উত্তরণ ঘটিয়েছেন এক অসাধারণত্বে। ক্ষুদ্র দীঘির মধ্যে এনেছেন সমুদ্রের বিশালতা।
শুধু নাটক নয়, কবি হিসেবেও তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিদের অন্যতম। তার প্রতিটি কবিতাই এক অপূর্ব কাব্যদ্যূতিতে উজ্জ্বল। দুটি কাব্য এবং ১৫৪টি সনেট তিনি রচনা করেছেন। শেক্সপিয়রের প্রথম কাব্য ভেনাস এবং অ্যাডোনিস। মানুষের অন্তরে দেহগত যে কামনার জন্ম সাহিত্যে তার প্রকাশ ঘটেছে রেনেসাঁ-উত্তর পর্বে। একদিকে দেহগত কামনা অন্যদিকে সৌন্দর্যের প্রতি আকাঙক্ষা মূর্ত হয়ে উঠেছে ভেনাস এবং অ্যাডোনিসে।
কিশোর অ্যাডোনিসের সৌন্দর্যে মুগ্ধ ভেনাস। তার যৌবনে রক্তের স্পন্দন। সে সমস্ত মন প্রাণ সত্তা দিয়ে পেতে চায় অ্যাডোনিসকে। পূর্ণ করতে চায় তার দেহমনের আকাঙক্ষা। কিন্তু পুরুষ কি শুধুই নারীর দেহের মধ্যে পরিপূর্ণ তৃপ্তি পেতে পারে? সে যেতে চায় বন্য বরাহ শিকার করতে। চমকে ওঠে ভেনাস। মনের মধ্যে জেগে ওঠে শঙ্কা যদি কোনো বিপদ হয় তার প্রিয়তমের, বলে ওঠে-
বরাহ… যে যখন ক্রুদ্ধ হয়
তার দুই চোখ জ্বলে ওঠে জোনাকির মতো
যেখানেই সে যাক তার দীর্ঘ নাসিকায়
সৃষ্টি করে কবর।…
যদি সে তোমাকে কাছে পায়…
উৎপাটিত তৃণের মতোই
উপড়ে আনবে তোমার সৌন্দর্য।
তবুও শিকারে যায় অ্যাডোনিস। দুর্ভাগ্য তার, বন্য বরাহের হিংস্র আক্রমণে ছিন্ন হয় তার দেহ। হাহাকার করে ওঠে ভেনাস। প্রিয়তমের মৃত্যুর বেদনায় সমস্ত অন্তর রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
রচনার কাল অনুসারে শেক্সপিয়রের নাটকগুলোকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগের বিস্তার ১৫৮৮ থেকে ১৫৯৫ সাল পর্যন্ত। এই পর্বের উল্লেখযোগ্য নাটক রিচার্ড থ্রি, কমেডি অব এররস, টেমিং অব দি শ্রু, রোমিও জুলিয়েট।
১৫৯৬ থেকে ১৬০৮। এই সময়ে রচিত হয়েছে তার শ্রেষ্ঠ চারটি ট্র্যাজেডি-হ্যামলেট, ওথেলো, কিং লিয়ার, ম্যাকবেথ।
শেষ পর্বে যে ৫টি নাটক রচনা করেন তার মধ্যে দুটি অসমাপ্ত, তিনটি সমাপ্ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দি টেম্পেস্ট।
শেক্সপিয়রের এই নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে কমেডি, ঐতিহাসিক নাটক, ট্র্যাজেডি, রোমাঞ্চ।
কমেডি-শেক্সপিয়রের উল্লেখযোগ্য কমেডি হলো লাভস লেবারস লস্ট, দি টু জেন্টলম্যান অব ভেরোনা, দি টেমিং অব দি শ্রু. কমেডি অব এররস, এ মিড সামার নাইটস ড্রিম, মার্চেন্ট অব ভেনিস, ম্যাচ অ্যাডো অ্যাবাহুট নাথিংস, টুয়েলফথ নাইট, অ্যাজ ইউ লাইক ইট।
এর মধ্যে মাত্র কয়েকটিকে বাদ দিলে সমস্ত নাটক এক অসাধারণ সৌন্দর্যে উজ্জ্বল। প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত প্রাণবন্ত সজীবতায় ভরপুর।
শেক্সপিয়রের বিখ্যাত কমেডিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কমেডি হলো দি মার্চেন্ট অব ভেনিস।
শেক্সপিয়রের শ্রেষ্ঠ ৩টি কমেডি হলো অ্যাজ ইউ লাইক ইট, টুয়েলফথ নাইট, ম্যাচ অ্যাডো অ্যাবাউট নাথিং। এই কমেডিগুলোর মধ্যে মানব জীবন এক অসামান্য সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত হয়ে আছে। হাসি কান্না আনন্দ সুখ দুঃখ মজার এক আশ্চর্য সংমিশ্রণ ঘটেছে এই নাটকগুলোর মধ্যে। নাটকের সেই সমস্ত পাত্র-পাত্রী যারা সকল অবস্থার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে, অন্যকে ভালোবেসেছে, তারাই একমাত্র জীবনে সুখী হতে পেরেছে। এই কমেডির নায়িকারা সকলেই আদর্শ চরিত্রের। অন্যের প্রতি তারা সহৃদয়। পরের জন্য তারা দ্বিধাহীন চিত্তে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দেয়। একদিকে তারা করুণাময়ী অন্যদিকে তারা বুদ্ধিমতী। শেক্সপিয়রের কমেডিতে নারী চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্বের কাছে পুরুষেরা ম্লান হয়ে যায়।
ঐতিহাসিক নাটক-ইতিহাসের প্রতি শেক্সপিয়রের ছিল গভীর আগ্রহ। একদিকে ইংল্যান্ডের ইতিহাস অন্যদিকে গ্রিক ও রোমান ইতিহাসের ঘটনা থেকেই তিনি তার ঐতিহাসিক নাটকগুলোকে অসাধারণ পর্যায়ে উন্নীত করেছেন। ঐতিহাসিক নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রিচার্ড থ্রি, হেনরি ফোর, জুলিয়াস সিজার, অ্যান্টোনি ও ক্লিওপেট্রা। হেনরি ফোর নাটকের এক আশ্চর্য চরিত্র ফলস্টাফ, রাজবিদুষক সে অফুরন্ত প্রাণরসের উৎস। তার চরিত্রের নানা দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের মনকে কেড়ে নেয়। এমন আশ্চর্য চরিত্র বিশ্বসাহিত্যে বিরল।
জুলিয়াস সিজার শেক্সপিয়রের আরেকটি বিখ্যাত নাটক। এই নাটকের মুখ্য চরিত্র সিজারস, ব্রুটাস এবং অ্যান্টোনি। রোমের নেতা জুলিয়াস সিজার যুদ্ধ জয় করে দেশে ফিরেছেন। চারদিকে উৎসব। সিজারও উৎসবে যোগ দিতে চলেছেন। সাথে বন্ধু অ্যান্টোনি। হঠাৎ পথের মাঝে এক দৈবজ্ঞ এগিয়ে এসে সিজারকে বলে আগামী ১৫ মার্চ আপনার সতর্ক থাকার দিন।
সিজার দৈবজ্ঞের কথার গুরুত্ব দেন না। কিন্তু দেশের একদল অভিজাত মানুষ তার এই খ্যাতি ও গৌরবে ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে। তারা সিজারের প্রিয় বন্ধু ব্রুটাসকে উত্তেজিত করতে থাকে। সিজারের এই অপ্রতিহত ক্ষমতা যেমন করেই হোক খর্ব করতেই হবে। না হলে একদিন সিজার সকলকে ক্রীতদাসে পরিণত করবে।
কিন্তু ব্রুটাস কোনো ষড়যন্ত্রে যোগ দিতে চাইছিলেন না। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীর দল নানাভাবে ব্রুটাসকে প্ররোচিত করতে থাকে। মানসিক দিক থেকে দুর্বল ব্রুটাস শেষ পর্যন্ত অসহায়ের মতো ষড়যন্ত্রকারীদের ইচ্ছার কাছেই আত্মসমর্পণ করেন।
১৫ মার্চ সিনেটের অধিবেশনের দিন। সকল সদস্য সেই দিন সিনেটে উপস্থিত থাকবে। কিন্তু আগের রাতে বারবার দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকেন সিজারের স্ত্রী ক্যালপুনিয়া। তার নিষেধ সত্ত্বেও বীর সিজার সিনেটে গেলে সুযোগ বুঝে বিদ্রোহীর দল একের পর এক ছোরা সিজারের দেহে বিদ্ধ করে। শেষ আঘাত করে ব্রুটাস। প্রিয়তম বন্ধুকে বিশ্বাসঘাতকতা করতে দেখে আর্তনাদ করে ওঠে সিজার, ব্রুটাস তুমিও!
সিজারের মৃত্যুতে উল্লাসে ফেটে পড়ে ষড়যন্ত্রকারীর দল। শুধু একজন প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে, সে অ্যান্টোনি। প্রকাশ্য রাজপথে দাঁড়িয়ে জনসাধারণের কাছে সিজারকে হত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে ব্রুটাস। তার বক্তৃতায় মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে জনগণ। তারা ব্রুটাসের জয়ধ্বনি করে ভুলে যায় সিজারের কথা। ব্রুটাস চলে যেতেই বক্তৃতা শুরু করে অ্যান্টোনি। সে সুকৌশলে সিজারের প্রতি জনগণের ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে। তাদের কাছে প্রমাণ করে সিজার একজন মহান মানুষ, তাকে অন্যায়ভাবে ব্রুটাস ও অন্যরা হত্যা করেছে।
সমস্ত মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ষড়যন্ত্রকারীর দল প্রাণভয়ে দেশত্যাগ করে। কিন্তু যুদ্ধে সকলে নিহত হয়। জুলিয়াস সিজার নাটকে ব্রুটাস হত্যাকারী বিশ্বাসঘাতক হলেও তার অন্তর্দ্বন্দ্ব, মানসিক দুর্বলতা, অন্তিম পরিণতি আমাদের মনকে বিষণ্ন করে তোলে।
আর একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক অ্যান্টোনি ও ক্লিওপেট্রা। এই নাটকের বিষয়বস্তু প্রেম। সুন্দরীশ্রেষ্ঠ ক্লিওপেট্রার সাথে অ্যান্টোনির প্রেম। নাটকের প্রথমে ক্লিওপেট্রাকে এক সাধারণ প্রেমিকা বলে মনে হলেও শেষে তার আত্মত্যাগ তাকে মহীয়সী করে তুলেছে।
ট্র্যাজেডি-শেক্সপিয়রের প্রথম ট্র্যাজেডি রোমিও জুলিয়েট। এতে মানব জীবনের কোনো দ্বন্দ্ব নেই, নেই পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রামের ব্যর্থতার যন্ত্রণা। রোমিও জুলিয়েটের জীবনে যে করুণ পরিণতি ঘটেছে তার জন্যে তাদের পারিবারিক বিবাদই দায়ী।
দুটি পরিবার মনটেগু ও ক্যাপিউলেট। প্রভাব প্রতিপত্তিতে কেউ কম যায় না। কিন্তু দুই পরিবারের মধ্যেই তীব্র বিবাদ। সারাটা বছরই ঝগড়া মারামারি লেগেই আছে। ক্যাপিউলেট পরিবারের কন্যা জুলিয়েট। রূপের কোনো তুলনা নেই। শান্ত স্বভাবের মেয়ে। অপরদিকে মন্টেগু পরিবারের সন্তান রোমিও পরিবারের সকলের চেয়ে আলাদা। একদিন দুজনের দেখা হয়। রূপে মুগ্ধ দুই তরুণী-তরুণী প্রেমের বাঁধনে বাঁধা পড়ে যায়। কিন্তু এই প্রেম তো দুই পরিবারের কেউ স্বীকার করবে না। তাই চলে গোপন অভিসার। কিন্তু মিলনের পথে বাধা এসে দাঁড়ায়। জুলিয়েটের বিবাহ স্থির হয় অন্য জায়গায়। অসহায় জুলিয়েট তার গুরু সন্ন্যাসী লরেন্সের কাছে সাহায্য চায় যেমন করেই হোক এই বিয়ে বন্ধ করতেই হবে।
লরেন্স তাকে এক শিশি ওষুধ দেয়। সেই ওষুধের প্রভাবে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে জুলিয়েট। মনে হবে মারা গেছে। সেভাবে থাকবে বিয়াল্লিশ ঘণ্টা। তাকে সমাধি দেয়া হবে। এই ঘটনা জানবে শুধু রোমিও। যখন জুলিয়েটের ঘুম ভাঙবে দুজনে পালিয়ে যাবে মান্তুয়ায়।
বিয়ের রাতেই জুলিয়েট সেই ওষুধ খায়, মৃত মনে করে সমস্ত প্রাসাদে কান্নার রোল ওঠে। বিয়ের সাজেই তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
দুর্ভাগ্যবশত লরেন্সের পাঠানো সংবাদ ঠিক সময়ে এসে পৌঁছায় না রোমিওর কাছে। জুলিয়েটের মৃত্যুসংবাদ শুনে শোকে দুঃখে সকলের অগোচরে সমাধিক্ষেত্রে গিয়ে তীব্র বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। এদিকে জুলিয়েটের জ্ঞান ফিরে আসে। প্রিয়তমের মৃত্যু দৃশ্যে নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না। রোমিওর ছোরা তুলে নিয়ে নিজের বুকে বিঁধিয়ে দেয়। তার মৃতদেহ লুটিয়ে পড়ে রোমিওর ওপর।
দুই পরিবারের লোকজনই সবকিছু জানতে পেরে ছুটে আসে। দুটি তরুণ প্রাণের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয় পারিবারিক বিবাদ।
রোমিও জুলিয়েট নাটকে প্রেমের দৃশ্যগুলো শেক্সপিয়রের কবিত্বগুণে মনোহারি হয়ে উঠেছে। ভাষার লাবণ্য আর মাধুর্য নাটকীয়তার অসাধারণত্বের জন্য রোমিও জুলিয়েট যুগ যুগ ধরে মানুষের মন কেড়ে নিয়েছে।
মানুষের মানসিক দুর্বলতা থেকে কীভাবে ট্র্যাজেডি রচিত হয় তারই প্রকাশ ঘটেছে শেক্সপিয়রের বিখ্যাত ট্র্যাজেডি ওথেলোতে।
ভেনিসের বীর সেনাপতি ওথেলো। কৃষ্ণকায়মূর। সাহসী দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। তার বীরত্বের কাহিনী শুনতে শুনতে তাকে ভালোবেসে ফেলেছিল সিনেটার ব্রাবানশিওর সুন্দরী কন্যা ডেসডিমোনা। ওথেলোর সঙ্গে ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। ব্রাবানশিও অভিযোগ জানাল ডিউকের কাছে। ডিউকের আদেশে সকলের সামনে এসে ডেসডিমোনা জানাল সে ওথেলোকে ভালোবেসে স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়ে বের হয়েছে।
অন্যদিকে ব্রাবানশিওর এক আত্মীয় রোডারিগো চেয়েছিল ডেসডিমোনাকে বিয়ে করতে। তার এই ইচ্ছার কথা জানত ওথেলোর এক কর্মচারী ইয়াগো। তার ইচ্ছা ছিল সেনাপতি ওথেলোর সহকারী হওয়ার। কিন্তু ওথেলো সহকারী হিসেবে নির্বাচিত করেছিল বেসিওকে। বেসিওকে তাড়িয়ে দিয়ে সে হবে ওথেলোর সহকারী।
এমন সময় তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ওথেলোকে পাঠানো হলো সাইপ্রাসে। তার অনুগামী হলো ডেসডিমোনা, বেসিও, ইয়াগো ও তার বউ এমিলিয়া।
যুদ্ধে জয়ী হয় ওথেলো। তার সম্মানে আনন্দ উৎসব হয়। রাত গভীর হতেই নগর রক্ষার ভার বেসিওর ওপর দিয়ে ডেসডিমোনার শয়নকক্ষে যায় ওথেলো। ইয়াগো এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। বেসিওকে মদ খাইয়ে মিথ্যা গন্ডগোল সৃষ্টি করে। তারই জন্য তাকে কর্মচ্যুত করে ওথেলো। দুঃখে অনুশোচনায় ভেঙে পড়ে বেসিও। ইয়াগো তাকে বলে ডেসডিমোনার কাছে গিয়ে অনুরোধ করতে। স্ত্রীর কথা ওথেলো কখনোই ফেলতে পারবে না।
বেসিও যায় ডেসডিমোনার কাছে। গোপনে ওথেলো ইয়াগোকে ডেকে বলে দুজনের মধ্যে গোপন প্রণয় আছে। ওথেলোর মনের মধ্যে সন্দেহের বীজ জেগে ওঠে। ওথেলো ডেসডিমোনাকে একটি মন্ত্রপূত রুমাল দিয়েছিল। ডেসডিমোনা কখনো সেই রুমালটি নিজের হাতছাড়া করত না। একদিন ডেসডিমোনার কাছ থেকে রুমালটি হারিয়ে গিয়েছিল। তা কুড়িয়ে নিয়ে এমিলিয়াকে দিল। ইয়াগো দিল বেসিওকে। ডেসডিমোনার কাছে রুমাল না দেখে ওথেলোর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তারই সাথে ওথেলোর মনকে আরও বিষাক্ত করে তোলে ইয়াগো। ক্রোধে আত্মহারা হয়ে ওথেলো ঘুমন্ত ডেসডিমোনাকে গলা টিপে হত্যা করে। তারপরই আসল সত্য প্রকাশ পায়। ইয়াগোকে বন্দি করা হয় আর ওথেলো নিজের বুকে ছুরিবিদ্ধ করে আত্মহত্যা করে। বীর ওথেলোর এই মৃত্যু আমাদের সমস্ত অন্তরকে ব্যথিত করে তোলে।
শেক্সপিয়রের আর একখানি বিখ্যাত নাটক ম্যাকবেথ। শেক্সপিয়রের ট্র্যাজেডির সব নায়িকার মধ্যেই যে মহীয়সী রূপের প্রকাশ দেখতে পাই, লেডি ম্যাকবেথের মধ্যে তা পাই না। ম্যাকবেথ সাহসী বীর কিন্তু মানসিক দিক থেকে কিছুটা দুর্বল, তাই স্ত্রীর কথায় সে চালিত হয়। লেডি ম্যাকবেথের প্ররোচনায় সে খুন করে তার রাজাকে। তারপর সিংহাসন অধিকার করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুবরণ করতে হয়। লেডি ম্যাকবেথের চরিত্রের মধ্যে পাপের পূর্ণ প্রকাশ ঘটলেও তার চরিত্রে অসাধারণ দৃঢ়তা, অদম্য তেজ, দৃপ্ত ভঙ্গি, মনোবল আমাদের মুগ্ধ করে। তার প্রতিটি কাজের পেছনে ছিল এক উচ্চাশা। কোনো নীচুতার স্পর্শ নেই সেখানে।
শেক্সপিয়রের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে তার হ্যামলেট নাটকে। এক আশ্চর্য চরিত্র এই হ্যামলেট। সে মানুষের চির রহস্যের, কখনো তার উন্মাদের ভাব, কখনো উচ্ছ্বাস, কখনো আবেগ, এরই সাথে ঘৃণা, বিদ্বেষ, ক্রোধ, প্রতিহিংসা। তার চরিত্রের অন্তর্দ্বন্দ্ব যুগ যুগ ধরে পাঠককে বিভ্রান্ত করে তোলে। তাই বোধহয় নাট্যকার বার্নার্ড শ কৌতুক করে বলেছিলেন ডেনমার্কের ওই পাগল ছেলেটা কী করে তার ভোঁতা তলোয়ার দিয়ে পৃথিবীটাকে জয় করে ফেলল, ভাবতে ভাবতে আমার দাড়ি পেকে গেল।
ডেনমার্কের যুবরাজ হ্যামলেট। সবেমাত্র পিতার মৃত্যু হয়েছে। মা তারই কাকাকে বিবাহ করেছে। পিতার মৃত্যুতে শোকাহত হ্যামলেট একদিন রাতে তার কয়েকজন অনুচরসহ পাহারা দিতে দিতে দেখতে পায় হ্যামলেটের পিতার প্রেতমূর্তি। হ্যামলেট পিতার সেই প্রেতমূর্তির সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে। সেই প্রেতমূর্তি তাকে বলে তার বাগানে ঘুমানোর সময় তারই ভাই (হ্যামলেটের কাকা) কানের মধ্যে বিষ ঢেলে দেয় আর তাতেই তার মৃত্যু হয়। হ্যামলেট যেন এই মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়।
হ্যামলেট বুঝতে পারে তার পিতাকে হত্যা করা হয়েছে। সে উন্মাদের মতো হয়ে ওঠে। তার প্রিয়তমা ওফেলিয়ার সাথে পর্যন্ত এমন আচরণ করে, যা তার স্বভাববিরুদ্ধ। নিজের অজান্তে ওফেলিয়ার পিতা পলোনিয়াসকে হত্যা করে। মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত ওফেলিয়া আত্মহত্যা করে। আর হ্যামলেট আত্মদ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে। সে শুধু তার পিতার হত্যাকারীকেই হত্যা করতে চায় না, সে চায় রাজপ্রাসাদের সব পাপ কলুষতা দূর করতে। ষড়যন্ত্রের জাল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। হ্যামলেটের কাকা তাকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করতে চায় কিন্তু সেই বিষ পান করে মারা যান হ্যামলেটের মা। ক্রুদ্ধ হ্যামলেট তরবারির আঘাতে হত্যা করে কাকাকে। কিন্তু নিজেও বিষাক্ত ছুরির ক্ষতে নিহত হয়।
হ্যামলেটের এই মৃত্যু এক বেদনাময় গভীর অনুভূতির স্তরে নিয়ে যায়।
শেষ লেখা-শেক্সপিয়রের শেষ পর্যায়ের লেখাগুলো ট্র্যাজেডি বা কমেডি থেকে ভিন্নধর্মী। রোমাঞ্চ, মেলোড্রামা, বিচিত্র কল্পনার এক সংমিশ্রণ ঘটেছে এসব নাটকে। সিমবেলিন, উইন্টার্সটেল, টেমপেস্ট তার উল্লেখযোগ্য নাটক।
শেক্সপিয়ার এর জীবনী
শেক্সপিয়ার রচনাসমগ্র pdf
শেক্সপিয়রের
উক্তি
শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত উক্তি
উইলিয়াম
শেক্সপিয়ার এর উক্তি
উইলিয়াম
শেকসপিয়র
সেক্সপিয়ার এর জীবনী
সেক্সপিয়ার এর বানী
উইলিয়াম শেক্সপিয়র
(আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৬৪-১৬১৬)
বিশ্বের ইতিহাসে উইলিয়াম শেক্সপিয়র এক বিস্ময়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার-যার সৃষ্টি সম্বন্ধে এত বেশি আলোচনা হয়েছে, তার অর্ধেকও অন্যদের নিয়ে হয়েছে কি না সন্দেহ। অথচ তার জীবনকাহিনী সম্বন্ধে প্রায় কিছুই জানা যায় না বললেই চলে।
ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের অন্তর্গত এভন নদীর তীরে স্ট্রাটফোর্ড শহরে এক দরিদ্র পরিবারে শেক্সপিয়র জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় চার্চের তথ্য থেকে যা জানা যায় তাতে অনুমান তিনি সম্ভবত ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জন শেক্সপিয়রের মা ছিলেন আর্ডেন পরিবারের সন্তান। শেক্সপিয়র তার নাটকে মায়ের নামকে অমর করে রেখেছেন।
As you like it
আঠার বছর বয়সে শেক্সপিয়র বিবাহ করলেন তার চেয়ে ৮ বছরের বড় অ্যানি হাতওয়েকে। বিবাহের কয়েক মাসের মধ্যে অ্যানি এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। তার নাম রাখা হয় সুসানা। এর দুই বছর পর দুটি যমজ সন্তানের জন্ম হয়। ছেলে হ্যামলেট মাত্র ১ বছর বেঁচে ছিল।
শোনা যায় সংসার নির্বাহের জন্য তাকে নানা কাজকর্ম করতে হতো। একবার ক্ষুধার জ্বালায় স্যার টমাসের একটি হরিণকে হত্যা করেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়াতে তিনি পালিয়ে আসেন লন্ডনে। কিন্তু এই কাহিনী কতদূর সত্য সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়ে যায়। তবে যে কারণেই হোক তিনি স্ট্রাটফোর্ড ত্যাগ করে লন্ডন শহরে আসেন।
সম্পূর্ণ অপরিচিত শহরে কাজের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে পেশাদারি রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।
নাট্যজগতের সাথে এই প্রত্যক্ষ পরিচয়ই তার অন্তরের সুপ্ত প্রতিভার বীজকে ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত করে তোলে।
নাট্য সম্পাদনা কাজ করতে করতেই শেক্সপিয়র অনুভব করলেন দর্শকের মনোরঞ্জনের উপযোগী ভালো নাটকের একান্তই অভাব। সম্ভবত মঞ্চের প্রয়োজনেই শেক্সপিয়রের নাটক লেখার সূত্রপাত। ঠিক কখন তা অনুমান করা কঠিন। তবে সুদীর্ঘ গবেষণার পর প্রাথমিকভাবে একটি তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে তা থেকে অনুমান করা হয় যে তার নাটক রচনার সূত্রপাত ১৫৯১ সাল। এই সময় তিনি রচনা করেন তার ঐতিহাসিক নাটক হেনরি ঠও-এর তিন খণ্ড। নাটক রচনার ক্ষেত্রে এগুলো যে তার হাতেখড়ি তা সহজেই অনুমান করা যায়। কারণ এতে শেক্সপিয়রের প্রতিভার সামান্যতম পরিচয় নেই। এর পরের বছর লেখা নাটক রিচার্ড থ্রি
অনেকাংশে উন্নত। (Richard III)
১৫৯২ সালে ইংল্যান্ডে ভয়াবহ প্লেগ রোগ দেখা গিয়েছিল। তখন প্লেগের অর্থ নিশ্চিত মৃত্যু। দলে দলে মানুষ শহর ছেড়ে পালাতে আরম্ভ করল। অনিবার্যভাবে রঙ্গশালাও বন্ধ হয়ে গেল। নাটক লেখার তাগিদ নেই, শেক্সপিয়র রচনা করলেন তার দুটি কাব্য, ভেনাস ও অ্যাডোনিস এবং দি রেপ অব লুক্রি। এই দুটি দীর্ঘ কবিতাই তিনি সাদমটনের আর্লকে উৎসর্গ করেন।
কবি-নাট্যকার হিসেবে শেক্সপিয়রের খ্যাতি ক্রমশই চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। বিভিন্ন নাট্যগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাদের দলভুক্ত হওয়ার জন্য তার কাছে আমন্ত্রণ আসছিল। তিনি লর্ড চেম্বারলিনের নাট্যগোষ্ঠীতে যোগ দিলেন (১৫৯৪)। এই সময় থেকে শেক্সপিয়রের হাত থেকে বের হতে থাকে এক একটি অবিস্মরণীয় নাটক-টেমিং অব দি শ্রু, রোমিও জুলিয়েট, মার্চেন্ট অব ভেনিস, হেনরি ফোর, জুলিয়াস সিজার, ওথেলো, হ্যামলেট। তার শেষ নাটক রচনা করেন ১৬১৩ সালে হেনরি এইট।
একদিন যিনি তস্করের মতো স্ট্রাটফোর্ড ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন সেখানেই বিরাট এক সম্পত্তি কিনলেন। ইতিপূর্বে লন্ডন শহরেও একটি বাড়ি কিনেছিলেন। সম্ভবত ১৬১০ সাল পর্যন্ত এই বাড়িতেই বাস করেছিলেন শেক্সপিয়র। এরপর তিনি অবসর জীবন যাপন করার জন্য চিরদিনের জন্য লন্ডন শহরের কলকোলাহল, প্রিয় রঙ্গমঞ্চ ত্যাগ করে চলে যান স্ট্রাটফোর্ড। একটি মাত্র নাটক ছাড়া এই পর্বে আর কিছুই লেখেননি। ছয় বছর পর ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল (দিনটি ছিল তার বাহান্নতম জন্মদিন) তার মৃত্যু হলো। আগের দিন একটি নিমন্ত্রিত বাড়িতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে মদ্য পান করেন। শীতের রাতে পথেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর সুস্থ হয়ে ওঠেনি শেক্সপিয়র। জন্মদিনেই পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিলেন।
অথচ সবচেয়ে বিস্ময়ের, শেক্সপিয়র তার নাটকের প্রায় প্রতিটি কাহিনী দাঁড় করিয়েছেন, উত্তরণ ঘটিয়েছেন এক অসাধারণত্বে। ক্ষুদ্র দীঘির মধ্যে এনেছেন সমুদ্রের বিশালতা।
শুধু নাটক নয়, কবি হিসেবেও তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিদের অন্যতম। তার প্রতিটি কবিতাই এক অপূর্ব কাব্যদ্যূতিতে উজ্জ্বল। দুটি কাব্য এবং ১৫৪টি সনেট তিনি রচনা করেছেন। শেক্সপিয়রের প্রথম কাব্য ভেনাস এবং অ্যাডোনিস। মানুষের অন্তরে দেহগত যে কামনার জন্ম সাহিত্যে তার প্রকাশ ঘটেছে রেনেসাঁ-উত্তর পর্বে। একদিকে দেহগত কামনা অন্যদিকে সৌন্দর্যের প্রতি আকাঙক্ষা মূর্ত হয়ে উঠেছে ভেনাস এবং অ্যাডোনিসে।
কিশোর অ্যাডোনিসের সৌন্দর্যে মুগ্ধ ভেনাস। তার যৌবনে রক্তের স্পন্দন। সে সমস্ত মন প্রাণ সত্তা দিয়ে পেতে চায় অ্যাডোনিসকে। পূর্ণ করতে চায় তার দেহমনের আকাঙক্ষা। কিন্তু পুরুষ কি শুধুই নারীর দেহের মধ্যে পরিপূর্ণ তৃপ্তি পেতে পারে? সে যেতে চায় বন্য বরাহ শিকার করতে। চমকে ওঠে ভেনাস। মনের মধ্যে জেগে ওঠে শঙ্কা যদি কোনো বিপদ হয় তার প্রিয়তমের, বলে ওঠে-
বরাহ… যে যখন ক্রুদ্ধ হয়
তার দুই চোখ জ্বলে ওঠে জোনাকির মতো
যেখানেই সে যাক তার দীর্ঘ নাসিকায়
সৃষ্টি করে কবর।…
যদি সে তোমাকে কাছে পায়…
উৎপাটিত তৃণের মতোই
উপড়ে আনবে তোমার সৌন্দর্য।
তবুও শিকারে যায় অ্যাডোনিস। দুর্ভাগ্য তার, বন্য বরাহের হিংস্র আক্রমণে ছিন্ন হয় তার দেহ। হাহাকার করে ওঠে ভেনাস। প্রিয়তমের মৃত্যুর বেদনায় সমস্ত অন্তর রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
রচনার কাল অনুসারে শেক্সপিয়রের নাটকগুলোকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগের বিস্তার ১৫৮৮ থেকে ১৫৯৫ সাল পর্যন্ত। এই পর্বের উল্লেখযোগ্য নাটক রিচার্ড থ্রি, কমেডি অব এররস, টেমিং অব দি শ্রু, রোমিও জুলিয়েট।
১৫৯৬ থেকে ১৬০৮। এই সময়ে রচিত হয়েছে তার শ্রেষ্ঠ চারটি ট্র্যাজেডি-হ্যামলেট, ওথেলো, কিং লিয়ার, ম্যাকবেথ।
শেষ পর্বে যে ৫টি নাটক রচনা করেন তার মধ্যে দুটি অসমাপ্ত, তিনটি সমাপ্ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দি টেম্পেস্ট।
শেক্সপিয়রের এই নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে কমেডি, ঐতিহাসিক নাটক, ট্র্যাজেডি, রোমাঞ্চ।
কমেডি-শেক্সপিয়রের উল্লেখযোগ্য কমেডি হলো লাভস লেবারস লস্ট, দি টু জেন্টলম্যান অব ভেরোনা, দি টেমিং অব দি শ্রু. কমেডি অব এররস, এ মিড সামার নাইটস ড্রিম, মার্চেন্ট অব ভেনিস, ম্যাচ অ্যাডো অ্যাবাহুট নাথিংস, টুয়েলফথ নাইট, অ্যাজ ইউ লাইক ইট।
এর মধ্যে মাত্র কয়েকটিকে বাদ দিলে সমস্ত নাটক এক অসাধারণ সৌন্দর্যে উজ্জ্বল। প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত প্রাণবন্ত সজীবতায় ভরপুর।
শেক্সপিয়রের বিখ্যাত কমেডিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কমেডি হলো দি মার্চেন্ট অব ভেনিস।
শেক্সপিয়রের শ্রেষ্ঠ ৩টি কমেডি হলো অ্যাজ ইউ লাইক ইট, টুয়েলফথ নাইট, ম্যাচ অ্যাডো অ্যাবাউট নাথিং। এই কমেডিগুলোর মধ্যে মানব জীবন এক অসামান্য সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত হয়ে আছে। হাসি কান্না আনন্দ সুখ দুঃখ মজার এক আশ্চর্য সংমিশ্রণ ঘটেছে এই নাটকগুলোর মধ্যে। নাটকের সেই সমস্ত পাত্র-পাত্রী যারা সকল অবস্থার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে, অন্যকে ভালোবেসেছে, তারাই একমাত্র জীবনে সুখী হতে পেরেছে। এই কমেডির নায়িকারা সকলেই আদর্শ চরিত্রের। অন্যের প্রতি তারা সহৃদয়। পরের জন্য তারা দ্বিধাহীন চিত্তে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দেয়। একদিকে তারা করুণাময়ী অন্যদিকে তারা বুদ্ধিমতী। শেক্সপিয়রের কমেডিতে নারী চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্বের কাছে পুরুষেরা ম্লান হয়ে যায়।
ঐতিহাসিক নাটক-ইতিহাসের প্রতি শেক্সপিয়রের ছিল গভীর আগ্রহ। একদিকে ইংল্যান্ডের ইতিহাস অন্যদিকে গ্রিক ও রোমান ইতিহাসের ঘটনা থেকেই তিনি তার ঐতিহাসিক নাটকগুলোকে অসাধারণ পর্যায়ে উন্নীত করেছেন। ঐতিহাসিক নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রিচার্ড থ্রি, হেনরি ফোর, জুলিয়াস সিজার, অ্যান্টোনি ও ক্লিওপেট্রা। হেনরি ফোর নাটকের এক আশ্চর্য চরিত্র ফলস্টাফ, রাজবিদুষক সে অফুরন্ত প্রাণরসের উৎস। তার চরিত্রের নানা দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের মনকে কেড়ে নেয়। এমন আশ্চর্য চরিত্র বিশ্বসাহিত্যে বিরল।
জুলিয়াস সিজার শেক্সপিয়রের আরেকটি বিখ্যাত নাটক। এই নাটকের মুখ্য চরিত্র সিজারস, ব্রুটাস এবং অ্যান্টোনি। রোমের নেতা জুলিয়াস সিজার যুদ্ধ জয় করে দেশে ফিরেছেন। চারদিকে উৎসব। সিজারও উৎসবে যোগ দিতে চলেছেন। সাথে বন্ধু অ্যান্টোনি। হঠাৎ পথের মাঝে এক দৈবজ্ঞ এগিয়ে এসে সিজারকে বলে আগামী ১৫ মার্চ আপনার সতর্ক থাকার দিন।
সিজার দৈবজ্ঞের কথার গুরুত্ব দেন না। কিন্তু দেশের একদল অভিজাত মানুষ তার এই খ্যাতি ও গৌরবে ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে। তারা সিজারের প্রিয় বন্ধু ব্রুটাসকে উত্তেজিত করতে থাকে। সিজারের এই অপ্রতিহত ক্ষমতা যেমন করেই হোক খর্ব করতেই হবে। না হলে একদিন সিজার সকলকে ক্রীতদাসে পরিণত করবে।
কিন্তু ব্রুটাস কোনো ষড়যন্ত্রে যোগ দিতে চাইছিলেন না। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীর দল নানাভাবে ব্রুটাসকে প্ররোচিত করতে থাকে। মানসিক দিক থেকে দুর্বল ব্রুটাস শেষ পর্যন্ত অসহায়ের মতো ষড়যন্ত্রকারীদের ইচ্ছার কাছেই আত্মসমর্পণ করেন।
১৫ মার্চ সিনেটের অধিবেশনের দিন। সকল সদস্য সেই দিন সিনেটে উপস্থিত থাকবে। কিন্তু আগের রাতে বারবার দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকেন সিজারের স্ত্রী ক্যালপুনিয়া। তার নিষেধ সত্ত্বেও বীর সিজার সিনেটে গেলে সুযোগ বুঝে বিদ্রোহীর দল একের পর এক ছোরা সিজারের দেহে বিদ্ধ করে। শেষ আঘাত করে ব্রুটাস। প্রিয়তম বন্ধুকে বিশ্বাসঘাতকতা করতে দেখে আর্তনাদ করে ওঠে সিজার, ব্রুটাস তুমিও!
সিজারের মৃত্যুতে উল্লাসে ফেটে পড়ে ষড়যন্ত্রকারীর দল। শুধু একজন প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে, সে অ্যান্টোনি। প্রকাশ্য রাজপথে দাঁড়িয়ে জনসাধারণের কাছে সিজারকে হত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে ব্রুটাস। তার বক্তৃতায় মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে জনগণ। তারা ব্রুটাসের জয়ধ্বনি করে ভুলে যায় সিজারের কথা। ব্রুটাস চলে যেতেই বক্তৃতা শুরু করে অ্যান্টোনি। সে সুকৌশলে সিজারের প্রতি জনগণের ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে। তাদের কাছে প্রমাণ করে সিজার একজন মহান মানুষ, তাকে অন্যায়ভাবে ব্রুটাস ও অন্যরা হত্যা করেছে।
সমস্ত মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ষড়যন্ত্রকারীর দল প্রাণভয়ে দেশত্যাগ করে। কিন্তু যুদ্ধে সকলে নিহত হয়। জুলিয়াস সিজার নাটকে ব্রুটাস হত্যাকারী বিশ্বাসঘাতক হলেও তার অন্তর্দ্বন্দ্ব, মানসিক দুর্বলতা, অন্তিম পরিণতি আমাদের মনকে বিষণ্ন করে তোলে।
আর একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক অ্যান্টোনি ও ক্লিওপেট্রা। এই নাটকের বিষয়বস্তু প্রেম। সুন্দরীশ্রেষ্ঠ ক্লিওপেট্রার সাথে অ্যান্টোনির প্রেম। নাটকের প্রথমে ক্লিওপেট্রাকে এক সাধারণ প্রেমিকা বলে মনে হলেও শেষে তার আত্মত্যাগ তাকে মহীয়সী করে তুলেছে।
ট্র্যাজেডি-শেক্সপিয়রের প্রথম ট্র্যাজেডি রোমিও জুলিয়েট। এতে মানব জীবনের কোনো দ্বন্দ্ব নেই, নেই পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রামের ব্যর্থতার যন্ত্রণা। রোমিও জুলিয়েটের জীবনে যে করুণ পরিণতি ঘটেছে তার জন্যে তাদের পারিবারিক বিবাদই দায়ী।
দুটি পরিবার মনটেগু ও ক্যাপিউলেট। প্রভাব প্রতিপত্তিতে কেউ কম যায় না। কিন্তু দুই পরিবারের মধ্যেই তীব্র বিবাদ। সারাটা বছরই ঝগড়া মারামারি লেগেই আছে। ক্যাপিউলেট পরিবারের কন্যা জুলিয়েট। রূপের কোনো তুলনা নেই। শান্ত স্বভাবের মেয়ে। অপরদিকে মন্টেগু পরিবারের সন্তান রোমিও পরিবারের সকলের চেয়ে আলাদা। একদিন দুজনের দেখা হয়। রূপে মুগ্ধ দুই তরুণী-তরুণী প্রেমের বাঁধনে বাঁধা পড়ে যায়। কিন্তু এই প্রেম তো দুই পরিবারের কেউ স্বীকার করবে না। তাই চলে গোপন অভিসার। কিন্তু মিলনের পথে বাধা এসে দাঁড়ায়। জুলিয়েটের বিবাহ স্থির হয় অন্য জায়গায়। অসহায় জুলিয়েট তার গুরু সন্ন্যাসী লরেন্সের কাছে সাহায্য চায় যেমন করেই হোক এই বিয়ে বন্ধ করতেই হবে।
লরেন্স তাকে এক শিশি ওষুধ দেয়। সেই ওষুধের প্রভাবে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে জুলিয়েট। মনে হবে মারা গেছে। সেভাবে থাকবে বিয়াল্লিশ ঘণ্টা। তাকে সমাধি দেয়া হবে। এই ঘটনা জানবে শুধু রোমিও। যখন জুলিয়েটের ঘুম ভাঙবে দুজনে পালিয়ে যাবে মান্তুয়ায়।
বিয়ের রাতেই জুলিয়েট সেই ওষুধ খায়, মৃত মনে করে সমস্ত প্রাসাদে কান্নার রোল ওঠে। বিয়ের সাজেই তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
দুর্ভাগ্যবশত লরেন্সের পাঠানো সংবাদ ঠিক সময়ে এসে পৌঁছায় না রোমিওর কাছে। জুলিয়েটের মৃত্যুসংবাদ শুনে শোকে দুঃখে সকলের অগোচরে সমাধিক্ষেত্রে গিয়ে তীব্র বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। এদিকে জুলিয়েটের জ্ঞান ফিরে আসে। প্রিয়তমের মৃত্যু দৃশ্যে নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না। রোমিওর ছোরা তুলে নিয়ে নিজের বুকে বিঁধিয়ে দেয়। তার মৃতদেহ লুটিয়ে পড়ে রোমিওর ওপর।
দুই পরিবারের লোকজনই সবকিছু জানতে পেরে ছুটে আসে। দুটি তরুণ প্রাণের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয় পারিবারিক বিবাদ।
রোমিও জুলিয়েট নাটকে প্রেমের দৃশ্যগুলো শেক্সপিয়রের কবিত্বগুণে মনোহারি হয়ে উঠেছে। ভাষার লাবণ্য আর মাধুর্য নাটকীয়তার অসাধারণত্বের জন্য রোমিও জুলিয়েট যুগ যুগ ধরে মানুষের মন কেড়ে নিয়েছে।
মানুষের মানসিক দুর্বলতা থেকে কীভাবে ট্র্যাজেডি রচিত হয় তারই প্রকাশ ঘটেছে শেক্সপিয়রের বিখ্যাত ট্র্যাজেডি ওথেলোতে।
ভেনিসের বীর সেনাপতি ওথেলো। কৃষ্ণকায়মূর। সাহসী দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। তার বীরত্বের কাহিনী শুনতে শুনতে তাকে ভালোবেসে ফেলেছিল সিনেটার ব্রাবানশিওর সুন্দরী কন্যা ডেসডিমোনা। ওথেলোর সঙ্গে ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। ব্রাবানশিও অভিযোগ জানাল ডিউকের কাছে। ডিউকের আদেশে সকলের সামনে এসে ডেসডিমোনা জানাল সে ওথেলোকে ভালোবেসে স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়ে বের হয়েছে।
অন্যদিকে ব্রাবানশিওর এক আত্মীয় রোডারিগো চেয়েছিল ডেসডিমোনাকে বিয়ে করতে। তার এই ইচ্ছার কথা জানত ওথেলোর এক কর্মচারী ইয়াগো। তার ইচ্ছা ছিল সেনাপতি ওথেলোর সহকারী হওয়ার। কিন্তু ওথেলো সহকারী হিসেবে নির্বাচিত করেছিল বেসিওকে। বেসিওকে তাড়িয়ে দিয়ে সে হবে ওথেলোর সহকারী।
এমন সময় তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ওথেলোকে পাঠানো হলো সাইপ্রাসে। তার অনুগামী হলো ডেসডিমোনা, বেসিও, ইয়াগো ও তার বউ এমিলিয়া।
যুদ্ধে জয়ী হয় ওথেলো। তার সম্মানে আনন্দ উৎসব হয়। রাত গভীর হতেই নগর রক্ষার ভার বেসিওর ওপর দিয়ে ডেসডিমোনার শয়নকক্ষে যায় ওথেলো। ইয়াগো এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। বেসিওকে মদ খাইয়ে মিথ্যা গন্ডগোল সৃষ্টি করে। তারই জন্য তাকে কর্মচ্যুত করে ওথেলো। দুঃখে অনুশোচনায় ভেঙে পড়ে বেসিও। ইয়াগো তাকে বলে ডেসডিমোনার কাছে গিয়ে অনুরোধ করতে। স্ত্রীর কথা ওথেলো কখনোই ফেলতে পারবে না।
বেসিও যায় ডেসডিমোনার কাছে। গোপনে ওথেলো ইয়াগোকে ডেকে বলে দুজনের মধ্যে গোপন প্রণয় আছে। ওথেলোর মনের মধ্যে সন্দেহের বীজ জেগে ওঠে। ওথেলো ডেসডিমোনাকে একটি মন্ত্রপূত রুমাল দিয়েছিল। ডেসডিমোনা কখনো সেই রুমালটি নিজের হাতছাড়া করত না। একদিন ডেসডিমোনার কাছ থেকে রুমালটি হারিয়ে গিয়েছিল। তা কুড়িয়ে নিয়ে এমিলিয়াকে দিল। ইয়াগো দিল বেসিওকে। ডেসডিমোনার কাছে রুমাল না দেখে ওথেলোর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তারই সাথে ওথেলোর মনকে আরও বিষাক্ত করে তোলে ইয়াগো। ক্রোধে আত্মহারা হয়ে ওথেলো ঘুমন্ত ডেসডিমোনাকে গলা টিপে হত্যা করে। তারপরই আসল সত্য প্রকাশ পায়। ইয়াগোকে বন্দি করা হয় আর ওথেলো নিজের বুকে ছুরিবিদ্ধ করে আত্মহত্যা করে। বীর ওথেলোর এই মৃত্যু আমাদের সমস্ত অন্তরকে ব্যথিত করে তোলে।
শেক্সপিয়রের আর একখানি বিখ্যাত নাটক ম্যাকবেথ। শেক্সপিয়রের ট্র্যাজেডির সব নায়িকার মধ্যেই যে মহীয়সী রূপের প্রকাশ দেখতে পাই, লেডি ম্যাকবেথের মধ্যে তা পাই না। ম্যাকবেথ সাহসী বীর কিন্তু মানসিক দিক থেকে কিছুটা দুর্বল, তাই স্ত্রীর কথায় সে চালিত হয়। লেডি ম্যাকবেথের প্ররোচনায় সে খুন করে তার রাজাকে। তারপর সিংহাসন অধিকার করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুবরণ করতে হয়। লেডি ম্যাকবেথের চরিত্রের মধ্যে পাপের পূর্ণ প্রকাশ ঘটলেও তার চরিত্রে অসাধারণ দৃঢ়তা, অদম্য তেজ, দৃপ্ত ভঙ্গি, মনোবল আমাদের মুগ্ধ করে। তার প্রতিটি কাজের পেছনে ছিল এক উচ্চাশা। কোনো নীচুতার স্পর্শ নেই সেখানে।
শেক্সপিয়রের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে তার হ্যামলেট নাটকে। এক আশ্চর্য চরিত্র এই হ্যামলেট। সে মানুষের চির রহস্যের, কখনো তার উন্মাদের ভাব, কখনো উচ্ছ্বাস, কখনো আবেগ, এরই সাথে ঘৃণা, বিদ্বেষ, ক্রোধ, প্রতিহিংসা। তার চরিত্রের অন্তর্দ্বন্দ্ব যুগ যুগ ধরে পাঠককে বিভ্রান্ত করে তোলে। তাই বোধহয় নাট্যকার বার্নার্ড শ কৌতুক করে বলেছিলেন ডেনমার্কের ওই পাগল ছেলেটা কী করে তার ভোঁতা তলোয়ার দিয়ে পৃথিবীটাকে জয় করে ফেলল, ভাবতে ভাবতে আমার দাড়ি পেকে গেল।
ডেনমার্কের যুবরাজ হ্যামলেট। সবেমাত্র পিতার মৃত্যু হয়েছে। মা তারই কাকাকে বিবাহ করেছে। পিতার মৃত্যুতে শোকাহত হ্যামলেট একদিন রাতে তার কয়েকজন অনুচরসহ পাহারা দিতে দিতে দেখতে পায় হ্যামলেটের পিতার প্রেতমূর্তি। হ্যামলেট পিতার সেই প্রেতমূর্তির সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে। সেই প্রেতমূর্তি তাকে বলে তার বাগানে ঘুমানোর সময় তারই ভাই (হ্যামলেটের কাকা) কানের মধ্যে বিষ ঢেলে দেয় আর তাতেই তার মৃত্যু হয়। হ্যামলেট যেন এই মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়।
হ্যামলেট বুঝতে পারে তার পিতাকে হত্যা করা হয়েছে। সে উন্মাদের মতো হয়ে ওঠে। তার প্রিয়তমা ওফেলিয়ার সাথে পর্যন্ত এমন আচরণ করে, যা তার স্বভাববিরুদ্ধ। নিজের অজান্তে ওফেলিয়ার পিতা পলোনিয়াসকে হত্যা করে। মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত ওফেলিয়া আত্মহত্যা করে। আর হ্যামলেট আত্মদ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে। সে শুধু তার পিতার হত্যাকারীকেই হত্যা করতে চায় না, সে চায় রাজপ্রাসাদের সব পাপ কলুষতা দূর করতে। ষড়যন্ত্রের জাল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। হ্যামলেটের কাকা তাকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করতে চায় কিন্তু সেই বিষ পান করে মারা যান হ্যামলেটের মা। ক্রুদ্ধ হ্যামলেট তরবারির আঘাতে হত্যা করে কাকাকে। কিন্তু নিজেও বিষাক্ত ছুরির ক্ষতে নিহত হয়।
হ্যামলেটের এই মৃত্যু এক বেদনাময় গভীর অনুভূতির স্তরে নিয়ে যায়।
শেষ লেখা-শেক্সপিয়রের শেষ পর্যায়ের লেখাগুলো ট্র্যাজেডি বা কমেডি থেকে ভিন্নধর্মী। রোমাঞ্চ, মেলোড্রামা, বিচিত্র কল্পনার এক সংমিশ্রণ ঘটেছে এসব নাটকে। সিমবেলিন, উইন্টার্সটেল, টেমপেস্ট তার উল্লেখযোগ্য নাটক।
দেশী শব্দ
এক গঞ্জের কুড়ি ডাগড় টোপর মাথায় দিয়ে চোঙ্গা হাতে পেটের জ্বালায় চুলা,কুলা,ডাব ও ডিংগা নিয়ে টং এরমাচায় উঠল।
ফারসী শব্দ
চশমার দোকানদার ও কারখানার মেথর রোজার দিনে নামাজ না পড়ায় বেগম বাদশার কাছে নালিশকরলেন।
তাই শুনে বাদশা তাদের কে দরবারে ডেকে দস্তখত নিয়ে জানোয়ার ও বদমাশ বলে দোযখেপাঠালেন
গ্রীক শব্দ
গ্রীকের সেমাইয়ের দাম বেশী, সুরঙ্গ
বর্মী শব্দ
বর্মীরা লুঙ্গিকে ফুঙ্গি বলে
চীনা শব্দ
চীনার চিনির চা লিচুর মত লাগে, সাম্পান।
জাপানী শব্দ
জাপানের রিক্সায় হারিকেন লাগে
ওলন্দাজ শব্দ
ওলন্দাজরা ইস্কাপন, টেককা,তুরুপ, রুইতন, হরতন দিয়ে তাস খেলে
ফরাসী (ফ্রান্স)
গেরেজে কার্তুজের ডিপোতে বুর্জোয়া ইংরেজ ও ওলন্দাজদের রেস্তোরার কুপন আছে
পর্তুগীজ শব্দ
গীর্জার পাদ্রী চাবি দিয়ে গুদামের আলমারি খুলে তাতে আনারস,পেঁপে ও পেয়ারা আলপিন ও আলকাতরারাখলেন।কেরানী দিয়ে কামরা পরিস্কার করে জানালা খুলে দিলেন তারপর পেরেক,ইস্ত্রি, ইস্পাত ও পিস্তলবের করে বালতিতে রেখে বোমা বানালেন।
তুর্কী শব্দ
দারোগা বাহাদুর বাসায় আসবেন। তাই দাদা বাড়ির চাকর খাতুন বেগম কে দিয়ে বাবুর্চি কে খবর পাঠালেন। কুলি,লাংগল
যৌগিক শব্দ, রুঢ়/রুঢ়ি শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ
যৌগিক শব্দ
মধুর, গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, রাধুনি, দৌহিত্র, চিকামারা, পিতৃহীন, চালক, পাঠক, মিতালী, পাগলামী।
মনে রাখার সহজ টেকনিক
মধুর গায়ক কর্তব্য না করে বাবুয়ানা ভাব করে
রাঁধুনি দৌহিত্রকে নিয়ে চিকামারাতে গিয়ে দেখল পিতৃহীন
চালক, পাঠক মিতালীর সঙ্গে পাগলামি করছে।রুঢ় বা রুঢ়ি শব্দ
রুঢ়/রুঢ়ি শব্দ
তৈল, ভাজা, সন্দেশ, গবেষণা, রাখাল, প্রবীণ, শ্বশুর, পাঞ্জাবী, হস্তী, দারুণ, বাঁশি, হরিণ, মন্ডপ।
মনে রাখার সহজ টেকনিক
তৈলে ভাজা সন্দেশ খেয়ে গবেষণার জন্য এক রাখালের
প্রবীন শ্বশুর আজ পাঞ্জাবী পরে হস্তীর পিঠে চড়ে দারুণ বাঁশি বাজাতে থাকায়হরিণ মন্ডপ ছেড়ে পালাতে লাগল।
যোগরুঢ় শব্দ
রাজপুত্র, পঙ্কজ, সরোজ, জলধি, মহাযাত্রা।
মনে রাখার সহজ টেকনিক
রাজপুত্র পঙ্কজ ও সরোজ তোলার উদ্দেশ্যে
জলধিতে যাবার জন্য মহাযাত্রার আয়োজন করল।
DOWNLOAD NOWরিপোর্টারের গতি সর্বত্র। একজন এজেন্ট বা অপারেটর যেখানে যেতে পারে না, একজন রিপোর্টার সেখানে ঢুকে পড়তে পারে অনায়াসে। কাজেই এই কাভারটা ব্যাবহারের সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের সুযোগ্য কর্ণধার মেজর জেনারেল (অব.) রাহাত খান। খুব একচোট প্রাণ খুলে হেসেছিল মাসুদ রানা বেচারি সোহানা, সলীল আর জাহেদকে জার্নালিজমের ট্রেনিং নিতে দেখে। ওদের দুরবস্থায় লাভ করেছিল অনাবিল আনন্দ। কিন্তু.........। দ্বিতীয় ব্যাচে নোটিস বোর্ডে উঠল রানার নাম। তারপর?
দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ফিসারিজ বা মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে তৈরি করা হয়েছে “বিডি ফিসপিডিয়া” নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। অ্যাপটি তৈরি করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মৎস্য্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহানুল ইসলাম। . অ্যাপটির ডাউনলোড লিঙ্ক – htts://play.google.com/store/apps/details?id=com.kibibytes.fishbd. . মাছের পরিবার ও প্রজাতির নাম, কে প্রথম গবেষণা করেছে, কোথায় পাওয়া যায়, আকার কেমন, কোন রকমের মাছ ইত্যাদি তথ্য এবার পাওয়া যাবে এক প্লাটফর্মে। দেশিয় মাছের প্রায় সকল বৈজ্ঞানিক তথ্য জানতে আর মোটা বই ঘেটে বিড়ম্বনা পোহাতে হবে না। এতে বাঁচবে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময়। . এই অ্যাপটিতে ৫৬০টিরও বেশি স্বাদু ও লোনাপানির মাছের ছবিসহ সকল তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদকে চোখের পলকে হাতের মুঠোয় আনতে প্রকাশ করা হয়েছে এই অ্যাপ্লিকেশনটি। যা চলবে
আমাদের বাংলাদেশে অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। এই ধরেন কোন এক রেস্টুরেন্টে গিয়েছেন, বিলের রশিদে দেখবেন এতো % ভ্যাট। আপনার পকেট থেকে টাকাটা যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন ভ্যাটের টাকা সরকারি কোষাগার পর্যন্ত পৌঁছায় কিনা! নাকি আপনাকে বোকা বানানো হচ্ছে ! . কোন কোন ব্যবসায়ী মূসক নিবন্ধন ( ভ্যাটের সরকারি রেজিস্ট্রেশন ) না নিয়েও অবৈধভাবে ভ্যাট আদায় করে নিজের পকেটে ভরছেন। নিবন্ধনবিহীন এই ভ্যাটের টাকা থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। ইসিআর মেশিনে বিক্রয়ের তথ্য মুছে ফেলা হচ্ছে। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ, বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। আমাদের এই অ্যাপটি ভ্যাট ফাঁকি প্রতিরোধের চিন্তা থেকে তৈরি করা হয়েছে। এটি সরকারি ওয়েবসাইট www.nbr.gov.bd থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। তাই অ্যাপটির ফলাফল যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য। . চলুন ভ্যাট ফাঁকি রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। কার জন্য বসে থাকবো আমরা ? দেশটা তো আমাদেরই, তাই না ! . ডাউনলোড লিঙ্ক : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.enamelbd.vatchecker . অ্যাপটির মূল ফিচারগুলা দেখে নিন : ১। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য বা সেবা কিনলে তারা একটা রশিদ দেয়, যাতে থাকে একটা বি আই এন ( BIN- Business Identification Number ) নাম্বার। অ্যাপটিতে বিন নাম্বার বসিয়ে চেক করতে পারবেন আপনার প্রদত্ত ভ্যাট সরকারের কাছে ঠিক মতো যাচ্ছে নাকি প্রতারনা করা হচ্ছে! . ২। অ্যাপটির মাধ্যমে যদি জানতে পারেন আপনার প্রদত্ত ভ্যাট তারা সরকারকে দিচ্ছে না, তাহলে এই মোবাইল অ্যাপটির মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ করতে পারবেন। . ৩। অ্যাপটি আপনার প্রদত্ত বি আই এন নাম্বার এর মাধ্যমে সরসরি স্বয়ংক্রিতভাবে আপনার অভিযোগ যথাযথ কতৃপক্ষের নিকট প্রেরন করবে। . ৪। ভ্যাট সংক্রান্ত অন্য যেকোন অভিযোগও করতে পারবেন। কোন সেলসম্যান মূসক চালান প্রদানে কোনরূপ অসহযোগিতা কিংবা দূর্ব্যবহার করলে অথবা মূসক ফাঁকি দিলে অভিযোগ করুন। . ★ যোগ করা হয়েছে নিখুঁত অনুসন্ধান ব্যবস্থা। আপনার লোকেশান সা র্চ করুন একটি ক্লিকে। ★ অভিযোগ ফর্মে গ্যালারি থেকে রশিদ / চালানের ছবি অ্যাটাচ করা যাবে। . ৫। অ্যাপটির মাধ্যমে আপনারা ভ্যাট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কিছু ব্লগপোস্টও পড়তে পারবেন যেগুলা অনলাইনভিত্তিক আর নিয়মিত আপডেট করা হয়। . ৬। ভ্যাট সংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য অ্যাপটিতে সংযোজোন করা হয়েছে, যেগুলো ভ্যাট সম্পর্কে আপনার ধারনাকে আরো স্বচ্ছ করবে। বিভিন্ন প্রশ্ন এবং উত্তর থেকে আপনারা ভ্যাট প্রদানের নিয়ম, প্রতিষ্ঠানের বৈধতা সম্পর্কেও জানতে পারবেন । . বিঃ দ্রঃ এখন VAT Checker অ্যাপের মাধ্যমে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ করলে অ্যাপটি জানিয়ে দেবে কী অ্যাকশান নেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। নতুন এ ফিডব্যাক টেকনোলজি ঢাকা পশ্চিমের (NBR) অধীনে পাইলটিং শুরু হয়েছে। তার মানে হলো মিরপুর, মোহাম্মদপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ, ধামরাই, টাঙ্গাইল ও জামালপুর কমিশনারেটের অধীনে এ সার্ভিস শুরু হলো। ফলাফল পর্যালোচনা করে সারা দেশে এ ব্যবস্থা চালু করবে এনবিআর। . যদি কোন প্রতিষ্ঠান খুব নিকট অতীতে রেজিস্ট্রেশান করে থাকে তাহলে তাদের তথ্য রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপডেট হতে কিছুটা সময় লাগে। আপনি যদি VAT CHECKER অ্যাপের মাধ্যমে BIN নাম্বারটি সঠিক না পান তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ দেখতে চান। মূল্য সংযোজন কর আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন সনদ প্রকাশ্য স্থানে ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামুলক। মূসক চালান প্রদানে কোনরূপ অসহযোগিতা কিংবা দূর্ব্যবহার করলে অথবা মূসক ফাঁকি দিলে অভিযোগ করুন। . অ্যাপটি তৈরি করেছে বাংলাদেশি আইটি প্রতিষ্ঠান “এনামেল বিডি লিঃ”।
Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation test link ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat.
Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate another link velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.
Need our help to upload or customize this blogger template? Contact me with details about the theme customization you need.
Recent Posts
Categories
Ordered List
Lorem ipsum dolor sit amet, consectetuer adipiscing elit.
Aliquam tincidunt mauris eu risus.
Vestibulum auctor dapibus neque.
Sample Text
Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation test link ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat.
Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate another link velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.
Definition List
Definition list
Consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna
aliqua.
Lorem ipsum dolor sit amet
Consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna
aliqua.